| বঙ্গাব্দ

যাকাত ব্যবস্থাপনায় ১০-১৫ বছরে দারিদ্র্য মুক্তির রূপরেখা প্রধানমন্ত্রীর | বাংলাদেশ প্রতিদিন

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 07-03-2026 ইং
  • 829397 বার পঠিত
যাকাত ব্যবস্থাপনায় ১০-১৫ বছরে দারিদ্র্য মুক্তির রূপরেখা প্রধানমন্ত্রীর | বাংলাদেশ প্রতিদিন
ছবির ক্যাপশন: প্রধানমন্ত্রীর

যাকাত ব্যবস্থাপনায় ঘুচবে দারিদ্র্য: ১০-১৫ বছরের মহাপরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঢাকা: পরিকল্পিতভাবে যাকাত বণ্টনের মাধ্যমে আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে দেশ থেকে দারিদ্র্য বিমোচনের এক যুগান্তকারী রূপরেখা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (৭ মার্চ, ২০২৬) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এতিম শিশু ও ওলামা-মাশায়েখদের সম্মানে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে তিনি এই মহাপরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, লক্ষ্যভিত্তিক যাকাত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে একজন গ্রহীতাকে পরের বছর আর যাকাত নিতে হবে না।

যাকাত ও দারিদ্র্য বিমোচনের নতুন সমীকরণ

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ৪ কোটি পরিবার রয়েছে। এর মধ্যে দরিদ্র ও হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করে প্রতি বছর ৫ লাখ পরিবারকে যদি ১ লাখ টাকা করে যাকাত দেওয়া হয়, তবে তারা স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবে। তিনি বলেন, "গবেষণা অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতি বছর ২০-২৫ হাজার কোটি টাকার যাকাত আদায় হয়। কিন্তু সুসংগঠিত বণ্টনের অভাবে তা দারিদ্র্য বিমোচনে কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা রাখতে পারছে না। সরকার এখন এই ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করার পরিকল্পনা নিয়েছে।"

১৯৫০ থেকে ২০২৫: বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক বিবর্তন

বাংলাদেশের গত ৭৫ বছরের ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১৯৫০-এর দশকে যখন এ দেশে মুসলিম পারিবারিক আইন ও সামাজিক কাঠামো পুনর্গঠিত হচ্ছিল, তখন থেকেই যাকাত ও দানশীলতা বাঙালি মুসলিম সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১-এর স্বাধীনতা যুদ্ধ—প্রতিটি পর্যায়েই এ দেশের মানুষ ত্যাগের মহিমায় উজ্জীবিত হয়েছে।

১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী গণতান্ত্রিক যুগে দারিদ্র্য বিমোচনের নানা কর্মসূচি নেওয়া হলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন ধারার সূচনা করেছে। ২০২৫ সালের রাষ্ট্র সংস্কারের পর ২০২৬ সালের এই বর্তমান সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই বক্তব্য মূলত ‘নতুন বাংলাদেশে’ একটি বৈষম্যহীন ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়ার অঙ্গীকার। ১৯৫০ সালে যা ছিল নিছক ব্যক্তিগত পর্যায়ের দান, ২০২৬ সালে এসে তা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে দারিদ্র্য দূরীকরণের একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে।

কৃচ্ছ্রতা সাধন ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি

বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে এবারের রমজানে মাত্র দুটি ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। এতিমদের ‘হক’ আদায়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বিত্তবানদের প্রতি ইতিবাচক বার্তা দেন। পাশাপাশি রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়িয়ে যারা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করছেন, তাদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে অসাধুপন্থা পরিহারের আহ্বান জানান তিনি।

উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ

ইফতার মাহফিলে ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবগণ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ এবং বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আব্দুল মালেকসহ বরেণ্য আলেমগণ এতে অংশ নেন।


সূত্র: ১. প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (PMO) ও প্রেস উইং সংবাদ বিজ্ঞপ্তি (০৭ মার্চ ২০২৬)।

২. জাতীয় আর্কাইভস: বাংলাদেশে যাকাত ব্যবস্থাপনা ও দারিদ্র্য বিমোচনের ইতিহাস (১৯৫০-২০২৪)।

৩. বাংলাদেশ প্রতিদিন অনলাইন ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ বিভাগ।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency